//কবরের কথোপকথন(dua)
dua

কবরের কথোপকথন(dua)

কবরের কথোপকথন(dua)

ওদিকটায় কেউ আছেন নাকি? শুনতে পাচ্ছেন?

-আছি তো, বলুন।

না মানে জিজ্ঞেস করছিলাম এখানে কি রোজ পানি উঠে? অল্প বৃষ্টিতেই দেখি রীতিমতো বন্যা।

-তা উঠে বেশ ক বছর হলো, নতুন এসেছেন নাকি?

হ্যা কালই এসেছি, আপনি?

-আমি এদিকটায় আছি অনেক বছর, হিসেবে নেই সঠিক।

আপনার নামটা?

-নাম বাবা দিয়েছিলেন মোহাইমেন, শক্ত নাম, কিন্তু মা ডাকতেন বাবু, বাবার হাতের চড় আর চোখ রাঙানি ছিল পাথর সেই তুলনায় মায়ের আঁচলে ছিলো প্রশ্রয় আর চুমুতে ছিলো তুলো, আমি বাবুই রয়ে গেলাম।

হেঁহেঁ যা বললেন, দু-নামের পার্থক্য দেখে একটা মিম টেম্পলেটের কথা মনে পড়ে গেল।

-মিম টেম্পলেট?

বাদ দিন, বুঝাতে কষ্ট হবে, জেনারেশন গ্যাপ।

-তা অবশ্য ভুল বলেননি, আমরা পাশাপাশি যতটা কাছে এর ঠিক ততটাই দুরে এই জেনারেশন গ্যাপের কারণে।

হেঁহেঁ এই কথাটাও কিন্তু আবার টিপিকাল টিন-এজ প্রেমিকাদের মতো শুনালো, হালকা ক্রিঞ্জি।

-এত অম্লমধুর কথা ক্রিঞ্জ হয় কিভাবে? কি সুন্দর একটা লাইন ছাড়লাম-

এটাও বাদ দিন, বুঝাতে কষ্ট হবে,
তবে আমাকে ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন।

-কি ব্যাপার?dua

dua

এইযে এই পুরো ব্যাপারটা? এই নিরেট অন্ধকার? এটা কি সয়ে যায়?

-ব্যাপারটা পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো, কাউকে অন্ধ হতে দেখেছেন? অন্ধত্বের ভাগ আছে দুটো, অন্ধের চোখের জল, আলোর অভাবে চোখের কোটর হাহাকার করা, দপদপ করে চোখ জ্বলে ওঠা এসব হলো ডিনায়াল, মন মানতে চায় না, কিন্তু হঠাৎ করে শান্ত হয়ে যাওয়া? চুপ করে পায়ের আওয়াজে পার্থক্য করতে শেখা, ঘ্রাণে-ঘ্রাণে আপাদমস্তক জাত-পরিচয় বলে দেওয়া; এসব হলো এক্সেপ্টেন্স, মেনে নেয়া, এখানেও ব্যাপারটা একই, সয়ে যায়, যেতে কিছুটা সময় নেয় বৈকি।

আপনার সয়ে যেতে কতদিন লাগলো? পানি জমে এখানে গোটা জায়গা তো মিনি-পুকুর হয়ে গেছে, তার উপর নেই আলো-বাতাস।

-আপনি কি বসে আছেন?dua

হাঁটু ভাজ করে প্যাকেট হয়ে বসে আছি ভাই, এই অবস্থায় শোয়া যায় নাকি?

-পানির কথা ভুলে শুয়ে পড়ুন, বছরের শেষ বৃষ্টি, এরপর বৃষ্টি হবে না বহুদিন, মাটি ভুলে যাবে পানির স্বাদ; এখন তাই সব শুষে নেবে, টেনে নিবে আপনাকেও।

আমাকে টেনে নিবে মানে?

-বাদ দিন, বুঝাতে কষ্ট হবে।

কিন্তু-

-কোন কিন্তু নয়, শুয়ে পড়ুন, একটা প্রবল ঘুম আসার কথা, ঘুম ভাঙলে পরে কোন সময় যদি আমাদের আবার কথা হয়, তখন ঐ মিম টেম্পলেট আর আপনার জেনারেশনের শিটি ক্রিঞ্জ রেজিস্টেন্স নিয়ে না হয় বিস্তারিত আলোচনা হবে; এখন আর কথা বাড়াবেন না।
মোহাইমিন সাহেবের পাশের কবরের লাশটা তাই আর কথা না বাড়িয়ে সটান হয়ে শুয়ে পড়ে,
ডিসেম্বরের সন্ধ্যায় ঝিরবৃষ্টিতে মাটি চুঁইয়ে জমা পানিতে তার শরীর আধডুবে ভাসতে থাকে, কিন্তু এক প্রবল ঘুমের তোড়ে তার নিজের সত্বা, অন্ধকার, এই ভেসে থাকা; কিছুই আর লাশটার মনে থাকে না।