খোলা চিঠি-না বলা প্রেমের গল্প ২০২২

(না বলা প্রেমের গল্প) কত কিছু চিন্তা করেই তো লিখতে বসেছিলাম। এখন তার কোনটাই মাথায় কাজ করছেনা। আসলে কেনই বা লিখতে বসলাম?? জানো পিউ, ছোটবেলা থেকে এই লিখার জন্যই যে আব্বুর কাছে কত বকা খেয়েছি। আরো জানো? আমি কিন্তু সেই কিশোর বয়স থেকেই এসব প্রেম ভালোবাসা অনেক ভয় পাই। কারণ, আমার চোখের সামনে সেই বয়সেই ঝড়ে পরতে দেখেছিলাম আমার কিছু বন্ধুকে। সেদিন তারাও তাদের প্রথম ভালোবাসাকে হারিয়েছিল। আসলে প্রথম ভালোবাসা মনে হয় এমনই হয়, তাই না? কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোন প্রাণচঞ্চলা নব্য যুবতীকে স্থবির আর কঠিন হৃদয়ের করে ফেলে যেখানে ভালোবাসার মত আদিখ্যেতাকে সরিয়ে দেয় ক্যারিয়ারের চিন্তা।

আবার কিছু ক্ষেত্রে কোন প্রেমভীত যুবককে চোখ ভরা স্বপ্ন দেখিয়ে ভেঙে ফেলে। এভাবেই যখন আমি প্রেম ভালোবাসা এড়িয়ে চলতে চলতে জীবনের ২৪টা বসন্ত পার করে দিলাম, ঠিক তখনই ঘটলো অঘটনটা। এক রাতে Facebook এ ঘুরতে ঘুরতে একটা ছবির ভিতর, চশমার পিছনে থাকা ঐ চোখ দুটিতে এসে সময়টা থমকে গেল! খুব বেশী কাব্যিক হয়ে যাচ্ছে, তাই না? বিশ্বাস করবে না হয়ত, কিন্তু কাউকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানোর পর এতটা অধীর আগ্রহে কখনো অপেক্ষা করিনি।

তাই হয়ত তুমি Accept করার ৫ মিনিটের মধ্যেই সাহস করে মেসেজ দিয়ে দেই! এরপর তোমার সুন্দর প্রতিউত্তরেই হয়ত সাহসটা দিন দিন বাড়তে বাড়তে অধিকারের ঘরে গিয়ে ঠেকে… তুমি হয়ত বিরক্ত হচ্ছ পড়তে পড়তে এটা ভেবে যে আমি হয়ত এইখানে ইতিহাস লিখে ফেলব। ভয় পেয়ো না, তোমার মুল্যবান সময় নষ্ট করব না। তুমি কি জানো পিউ, অনেক আড্ডায় অনেক নব্য পরিচিত আমার সাথে অল্প ঘনিষ্ঠতায়ও তাদের ভালোবাসার ব্যর্থতার, স্মৃতির, সাফল্যের গল্প শোনায়।

না বলা প্রেমের গল্প

কিন্তু আমি কখনো কাউকে বলি নাই। বলবও বা কিভাবে, আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত আমার কাছে এখনো এতটা জীবন্ত যে বলা শুরু করলে শেষই হতে চাইবে না। মানুষ বলে প্রেমে ব্যর্থ হলে নাকি কবি হওয়া যায়। আমি কি সেই পথেই আগাচ্ছি?? তবুও ভালো, দেবদাস হয়ে মদের নেশায় বুদঁ না হয়ে, তোমার সাথে বানানো স্মৃতিতেই মগ্ন হয়ে থাকি…

জানো পিউ, তুমি যখন তোমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টার কথা আমাকে বলতে বলতে কান্না করে দিয়েছিলে ঐদিন নিজের মধ্যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তোমার জীবনটাকে অতীতের চেয়ে একটু একটু করে সুন্দর করে দিব, তোমার হাসিটাকে আরেকটু জীবন্ত করব, তোমার চোখগুলোতে একদিন আমার জন্য ভালোবাসা খুঁজে নিব। হয়ত অবিশ্বাস্য শোনাবে, কিন্তু গত ১.৫ বছর ধরে তোমার সাথে পরিচয়ের পর থেকে জাগ্রত অবস্থায় প্রতিটা মুহূর্ত আমি তোমার কথা চিন্তা করেছি। আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমি তোমাকে ঘিরে এমন কিছু একটা সৃষ্টি করব যা শুধু আমার জন্য থাকবে।

আজকে হয়ত ভালো কোন চিত্রকার হলে তোমার ছবি একেঁ রাখতাম, ভালো কোন গায়ক হলে তোমায় নিয়ে গান বানাতাম, ভালো লেখক হলে তোমায় নিয়ে উপন্যাস লিখতাম। কিন্তু তুমি তো জানই আমি তোমার দেখা সবচেয়ে গুণহীন ছেলে। তবুও আমি চাইতাম আমি তুমি কেউ না থাকলেও একদিন হয়ত সেই সৃষ্টি দেখে সবাই বলত, নাহ এই ছেলেটা আসলেই পিউকে ভালোবেসেছিল…

তুমি কি এটা কখনো ভেবে দেখেছ, তোমার এত অপমান, কটুক্তি সহ্য করার পরেও কেন আমি বারবার তোমার কাছেই যেতাম আবার কোন একটা ভুল করার জন্য? কারণ একটাই। দিন শেষে যত ক্লান্তি, শ্রান্তি, মন খারাপ, রাগ সব কিছু সরিয়ে দিয়ে আমার মনটা শান্ত করতে পারে শুধু দুটো জিনিস, আম্মুর হাসি আর তোমার মায়া ভরা কন্ঠটা। আমার জীবনে এই দুজন নারীর প্রতি আমার শ্রদ্ধায়, বিশ্বাসে কেউ একটা প্রশ্ন তুলতে পারবে না। একজন আমাকে জন্ম দিয়েছে, ২য় জন আমাকে স্বপ্ন দেখে বাচঁতে শিখিয়েছে

মিষ্টি প্রেমের গল্প

না বলা প্রেমের গল্প 2022

এই চিঠিটা কেন লিখছি আমি তাও জানি না, জানি না কখনো এটা তোমার হাতে পৌছাবে কিনা। তোমাকে ভালোবাসার পর থেকে কত অগণিত স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে নিয়ে, নিজের কল্পনায় কত যে মুহূর্ত সাজিয়েছি তোমায় নিয়ে কাটাবো বলে। তোমাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়ার আগে আমি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় করিনি। ভয়টা ছিল তোমাকে হারিয়ে ফেলার।

মনে আছে পিউ প্রথম যেদিন সেই সিনেমা হলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তুমি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে আমার কাঁধে কয়েকটা মুহূর্তের জন্য মাথা রেখেছিলে তার আগে কোনদিন আমি অনুভব করতে পারিনি ভালবাসায় কতটা সুখ আছে। সেই কয়েকটা সেকেন্ড এখনো আমার মনে জ্বল জ্বল করে। কেন সময়টা সেদিন অনন্তকালের জন্য থেমে যায়নি?

এইভাবে স্মৃতির অলিতে গলিতে ঘুরতে থাকলে এই চিঠি কখনো শেষ করা যাবে না। তোমার সাথে ঘুরতে বের হলে প্রতিটা মুহূর্তে তোমার হাসি, তাকানোর ভংগিমা, অঙ্গ ভঙি এতটা খুটিয়ে খেয়াল করি যে কথায় বলার কথা মনে থাকে না! আর সেক্ষেত্রে তোমার অভিযোগ আমি নাকি সব সময় গম্ভীর হয়ে থাকি!

আর লিখতে ইচ্ছা হচ্ছে না। যদি কোনদিন তোমাকে আমার সামনে এক ঘন্টা টানা বসিয়ে শুধু আমি বক বক করতে পারতাম তাহলে হয়ত তোমাকে বুঝাতে পারতাম আমার স্মৃতির খাতায় কত সুন্দর করে আমাদের গল্পটা সাজিয়ে রেখেছি…

আমি জানি আমি তোমার কাছে অনেক খারাপ এখন কিন্তু জানো পিউ, আমি এখনো স্বপ্ন দেখি আমি আর তুমি আরো কয়েক যুগ পরেও পাশাপাশি বসে হাতে হাত রেখে মুহূর্তগুলো অনুভব করছি।

সেরা প্রেমের গল্প

জানো পিউ, আমার কল্পনার এসব মুহূর্তগুলো তুমি ছাড়া কখনো পাওয়া সম্ভব না, কারণ পিউ তো একজনই।

তুমি হয়ত সব সময় তোমার জীবন সংগী হিসেবে যাকে কল্পনা করেছ তার সাথে আমার কোন মিল নেই। সব সময় উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা থাকবে যেন তোমাকে যোগ্য একজন জীবন সংগী এনে দেয়। তোমার পাশে থেকে তোমাকে সুখে রাখতে না পারি, দূরে গিয়ে তোমাকে সুখী দেখতে চাই। কোথায় যেন পড়েছিলাম, ভালোবাসা কখনো কমে না। শুধু সময়ের সাথে ভালোবাসা প্রকাশের আকুতিটা কমতে থাকে।

পরের জন্মের বিশ্বাস আমাদের ধর্মে নেই, তাও আমি চাই যদি আসলেই পরবর্তী কোন জন্মে পারি তাহলে যেন তোমার পাশে থাকার মতই সামর্থ্য নিয়ে আসি.

এত কিছু বলার পরেও কেন যেন মনে হচ্ছে এখনো তো কিছুই বলা হল না. শেষ করব সেই চিরাচরিত কথটা দিয়েই,

অনেক বেশী ভালোবাসি তোমাকে পিউ.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *