ভালবাসার কবিতা

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে মনে হলো।(ভালবাসার কবিতা)

(ভালবাসার কবিতা) ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে মনে হলো আমি গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছি। ঘুম ঘুম চোখে চোখ মেলে দেখি আমার সারা শরীর ভেজা। পাশে শ্রাবণী দাঁড়িয়ে আছে। শ্রাবণী আজ হালকা বেগুনী রঙের শাড়ি পরেছে। শাড়ির আঁচলটা কমড়ে গুজা আর সেই আঁচলের ফাঁক দিয়ে শ্রাবণীর ফর্সা পেটের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে। আমি যখন হা করে তাকিয়ে দেখছিলাম তখন শ্রাবণী আমার চোখে মুখে আবার পানি ঢেলে বললো,(ভালবাসার কবিতা)

ভালবাসার কবিতা

সকালেও কি তোমার মাথায় অন্যরকম চিন্তা ঘুরে? হা করে কি দেখছিলে? আমি যখন বলতে যাবো তখন শ্রাবণী আমায় থামিয়ে বললো, থাক, বলতে হবে না। সকাল থেকে আমি কাজ করে মরছি আর তুমি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছো। তাড়াতাড়ি বাজারে যাও। আমি মুচকি হেসে বললাম, সমস্যা নেই বাজারে যাচ্ছি। কিন্তু তুমি একটু কাছে আসবে? আমার কথা শুনে শ্রাবণী আমার থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে বললো,

হাতে এটা কি দেখেছো? রুটি বানানোর বেলান। একটা ভারি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলবো। তাড়াতাড়ি বাজারে যাও বলছি… কি আর করা ইচ্ছে না থাকা শর্তেও বাজারে যেতে হলো। সপ্তাহে একটা দিন ছুটি পাই অথচ এই দিনেও শান্তি নেই। বিয়ের পর থেকে দেখছি শ্রাবণী আমায় দৌড়ের উপর রাখে। সারাক্ষণ শাসন করে। আমার প্রতিটা কাজে ভুল ধরে। এজন্যই বারী সিদ্দিক বলেছিলো, পুরুষ হলো দুই প্রকার। এক হলো জীবিত আরেক হলো বিবাহিত। শ্রাবণীকে বিয়ের পর এখন নিজেকে মৃত মৃত লাগে… বাজারে গিয়ে টাটকা ছোট মাছ দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। ১ কেজি ছোট মাছ কিনলাম। কিন্তু শ্রাবণী মাছ দেখে চিৎকার করে বলতে লাগলো, (ভালবাসার কবিতা)

তোমায় না বলেছি শুধু তরকারি আনতে। ফ্রিজ ভরা মাছ তবুও তুমি মাছ আনতে গেলে কেন? আমি মুচকি হেসে বললাম, হঠাৎ ছোট মাছ খেতে ইচ্ছে হলো… শ্রাবণী আমার কথা শুনে বলল, তোমার ইচ্ছে হয়েছে তুমি মাছ কেটে রান্না করো। আমি কিছু করতে পারবো না। শ্রাবণী রাগে অন্য রুমে চলে গেলো আর আমি বাধ্য হয়ে মাছ কাটতে বসলাম… অফিসে বসে খুব জরুরি একটা ফাইল দেখছি। এমন সময় শ্রাবণী ফোন দিলো। আমি ফোনটা রিসিভ করতেই শ্রাবণী বললো,

আমি তোমার অফিসের পাশের রেস্টুরেন্টে বসে আছি। ২ মিনিটের মধ্যে আসো। আমি অবাক হয়ে বললাম, মানে কি? শ্রাবণী রেগে গিয়ে বললো, ২ মিনিটের মধ্যে আসবে, না কি আমি অফিসে ঢুকবো?(ভালবাসার কবিতা) আমি তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্টে গেলাম। শ্রাবণীর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর সারা মুখ লাল হয়ে আছে আর রাগে ওর গোলাপি ঠোঁটগুলো কাঁপছে। আমি ওর হাতটা ধরে বললাম, কি হয়েছে? তোমায় এমন দেখাচ্ছে কেন?


ও হাতটা সরিয়ে বললো,বিথী কে? আমি অবাক হয়ে বললাম, মানে? মানেটা হলো, আজ যে ফেইসবুকে গল্প পোস্ট করেছো সেই গল্পের নায়িকা বিথীটা কে? আমি মুচকি হেসে বললাম, আরে কেউ না, আমি এমনি এই নামটা ব্যবহার করেছি। তাছাড়া তুমি তো আমার এইসব ছাইপাঁশ গল্প পড়ো না। তাহলে তুমি কিভাবে জানলে আমার গল্পের নায়িকার নাম? শ্রাবণী আমার ফোনটা আছাড় মেরে ভেঙে বললো,

নেক্সট টাইম আমার নাম বাদে অন্য নাম ব্যবহার করলে আমি তোমায় ডিভোর্স দিবো বলে দিলাম। এই কথা বলে শ্রাবণী চলে গেলো আর আমি কিছুক্ষণ আগে নিহত হওয়া আমার ভাঙা ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলাম… বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতে দিতে ১১টা বেজে গেলো। যখন বন্ধুদের বললাম, অনেক দেরি হয়ে গেছে আমায় বাসায় যেতে হবে তখন আমার বন্ধু রাকিব খোঁচা দিয়ে বললো,

যা যা, তুই তো বউয়ের শখের বিড়াল। বউয়ের সামনে গেলেই মিউ মিউ করিস। কথাটা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। কিছু বলতে চেয়েও বললাম না। দরজাটা খুলেই শ্রাবণী হাজারটা প্রশ্ন শুরু করলো। কেন দেরি করলাম? ফোন কেন অফ ছিলো? আরো কত কি। রাগে শ্রাবণীর গালে থাপ্পড় মেরে বললাম, তোমার সমস্যাটা কি? আমার উপর এত অত্যাচার করো কেন? শখ করে মাছ ছোট কিনে আনলে সেই মাছ আমাকে কাটতে হয়।

আমাকে রান্না করতে হয়। নিজে স্বাধীনভাবে একটু লেখালেখিও করতে পারি না। পাঠকরা তোমার নাম পড়তে পড়তে বিরক্ত। তবুও আমার তোমার নাম লিখতে হয়। বাসায় একটু দেরি করে ফিরলে তোমার হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। দুপুরে যে নিজ হাতে ফোনটা ভেঙে এসেছো সেটা মনে নেই? এখন আবার বলছো ফোন কেন অফ ছিলো?

শ্রাবণী আমার কথার কোন উত্তর দিলো না। রাতে যখন অন্যদিকে ফিরে শুয়ে আছি তখন শ্রাবণী আমার কাঁধে হাত রেখে বললো, পিয়াস, তোমার মনে আছে? আমি প্রথম যেদিন তোমার মেসে যাই তখন তুমি নিজ হাতে আলু চিকন চিকন করে কেটে হালকা ঝোল দিয়ে ছোট মাছের তরকারি রান্না করেছিলে। এই তরকারির স্বাদটা যেন আমি ভুলে না যাই সেজন্য তুমি ছোট মাছ আনলে তোমাকে দিয়ে রান্না করাই।

আমি চাইনা আমার নাম বাদে অন্য কোন মেয়ের নাম তুমি উচ্চারণ করো। তোমায় আমি সব সময় বলি তুমি ফালতু গল্প লিখো। কিন্তু বিশ্বাস করো তুমি অফিসে চলে গেলে আমার সময় কাটে তোমার টাইমলাইনের ভিতর তোমার গল্পগুলো পড়তে পড়তে। অফিস টাইমবাদে তুমি যতক্ষণ বাহিরে থাকো ততক্ষণ আমার দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। শুধু চিন্তা করতে থাকি তুমি কখন বাসায় ফিরবে। তুমি বাসায় না ফেরা পর্যন্ত আমার খুব অস্তিরতা লাগে… কথাগুলো বলে শ্রাবণী অন্যদিকে ফিরে আছে।

হয়তো ও কান্না করছে। খুব ইচ্ছে করছে ওকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে কিন্তু নিজের অপরাধ বোধের জন্য সেটা পারছিলাম না… সকালে যখন ঘুম ভেঙেছে তখন তাকিয়ে দেখি শ্রাবণী আয়নার সামনে বসে চুল ঠিক করছে। ঘাড় থেকে যখন ও চুলগুলো সরালো তখন ওর পিঠে থাকা ছোট কালো তিলটা দেখা যাচ্ছিলো। আমি যখন ওর পিছনে দাড়ালাম তখন ও আমার দিকে ফিরে বললো ,

ভালবাসার কবিতা

পিয়াস আমি তোমায় প্রচন্ড ভালোবাসি.. আমি ওর কথার কোন উত্তর দিলাম না। শুধু ওর গালের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আর আমার চোখ দিয়ে তখন অনবরত পানি পরছে। রাতের থাপ্পড়ের দাগটা এখনো ওর ফর্সা গালে লেগে আছে..