//Best Romance Novels(ভালোবাসার গল্প )
best romance novels

Best Romance Novels(ভালোবাসার গল্প )

(best romance novels)বাসার কাজের মেয়েটা মধ্যরাতে হঠাৎ আমার রুমে এসে দরজা আটকে দিল। রক্তমাখা ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে! মাথার চুলগুলো এলোমেলো, সমস্ত গায়ে রক্তের ছেটা ফোটা লেগে আছে। আমি হকচকিয়ে হাত থেকে মোবাইলটা ফেলে দিয়ে এক লাফে উঠে বসলাম। মেয়েটি আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম “কী হয়েছেরে চুমকি? তোর এই অবস্থা কেন?” সাথে সাথে আঙুল মুখে নিয়ে ইশারায় আমাকে চুপ থাকতে বললো। কি হচ্ছে বুঝতে না পেরে এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা আমার গামছাটা টেনে নিয়ে হাতে মুখে লেগে থাকা রক্তের দাগ মুছে ফেললো।

চুমকির পড়নে রক্তমাখা সেলোয়ার কামিজ, জামা সম্পূর্ণ কুচকে আছে, হাতার কিছু অংশ ছেড়া। রক্ত মোছার পর বুঝতে পারলাম চুমকির কিছু হয় নি, তবে এত রক্ত কিসের ছিল! ভয়টা ক্রমশ বেড়ে চলছে। চুমকি খুব সাবলীল শুদ্ধ ভাষায় আমাকে বলছে.. “বাড়িতে এইমাত্র একটি খুন হয়েছে, সংখ্যাটা একটি পর্যন্ত রেখে যাব নাকি আরও একটা বাড়াবো সিদ্ধান্ত এখন আপনার!” আমি পুরো কথা শুনেও পরিষ্কার বুঝতে পারলাম না, আবার প্রশ্ন করে বসলাম। মেয়েটি চাকুর এপিঠ ওপিঠ খুটিয়ে খুটিয়ে মনযোগ দিয়ে দেখছে আর উত্তর দিচ্ছে.. “এই বাড়ির স্যার তালুকদার সাহেব এই মাত্র আমার হাতে খুন হয়েছেন!” কথা শুনে বুকে আমার প্রচন্ড চাপ বেড়ে গেল। মেয়েটা এসব কি বলছে!

romantic love story
romantic love story



(best romance novels)চিৎকার আহাজারি করার মতো অবস্থানে ছিলাম না আমি, কারণ বাসাটা নিজের নয়, এই ফ্ল্যাটটি একজন কলেজ প্রফেসরের। আমি সাবলেট ভারাটিয়া হিসেবে তার ফ্ল্যাটে এক রুম নিয়ে থাকছি, আমার মতন আরও একটি রুম তারা ভারা দিয়েছেন, বাকি তিন রুমে স্যার তার স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। তাই বাড়িতে কার কি হয়েছে তার থেকে নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবাটাই এখন মূখ্য বিষয়। চুমকি কেন খুনি হতে যাবে! আজব ব্যাপার, নিজেকে শান্ত রেখে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করছি, আশেপাশে তাকিয়ে দেখছি আর ভাবছি আমি কি স্বপ্নের ঘোরে আছি নাকি বাস্তবে। মেয়েটা আমাকে বলছে.. “কী ভাবছেন? বিশ্বাস হচ্ছে না?” একথা বলেই দরজা খুলে আমাকে উঁকি দিয়ে পাশের রুমে তাকাতে বলল। আমি মাথা উঁচিয়ে তাকালাম, দেখতে পেলাম পাশের রুমের মেঝে রক্তে ভেসে আছে, লোকটা বিবস্ত্র অবস্থায় নিচে পড়ে আছে! ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। কী সাংঘাতিক ব্যাপার! পাশের রুমে খুন হয়ে গেল অথচ কিছুই টের পেলাম না! মা ঠিক কথাই বলতেন, বাড়িতে বোম ফুটলেও তুই কিছুই টের পাবি না, মোবাইলের ভিতরেই ঢুকে থাকবি!

মাথাটা ঠিকঠাক কাজ করছে না, একজন খুনির সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি, এখন আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে তাহলে করনীয় কী? নিজেকে প্রস্তুত করে চাকুর দিকে লক্ষ্য রেখে কথা চালিয়ে গেলাম, “চুমকি শান্ত হ, কী হয়েছে খুলে বল? আমি তোর শত্রু নই, চাকুটা নামা” কথা বলতে বলতে দুই এক পা করে এগিয়ে যাচ্ছি তার দিকে। অল্পবয়সী যুবতী মেয়ে, লতাপাতার মতন বেড়ে উঠা হাতের মুঠে চাকুটা বড্ড বেমানান। মনে মনে ভাবছি, চাকুটা কোনোমতে ধরে ফেলতে পারলেই ব্যাস, এরপর বাকিটা নিজেই পেরে নিব, এই বাহুবল থেকে ছোটার মতো শক্তি প্রকৃতি তাকে দেয়নি। এগিয়ে আসছি বুঝতে পেরে চাকু শক্ত করে উঁচিয়ে কর্কশ কন্ঠে সাবধান করে দেয়.. “ডোন্ট ট্রাই টু বি ওভারস্মার্ট! আর এক কদম এগিয়ে আসবি তো তোর দেহটাও ঠিক ওভাবে ফেলে রাখব!” আমি সাথে সাথে পিছিয়ে গেলাম। বুঝতে পারলাম আমি যে কাজের মেয়ে চুমকিকে এই কয়দিন দেখে এসেছি এই চুমকি সেই চুমকি নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ। মুখের ভাষা থেকে শুরু করে চলনভঙ্গি সব কিছুই অচেনা লাগছে। মেয়েটি নিজ থেকেই বলা শুরু করলো… “চেয়েছিলাম শুধু স্যারকে মেরে যাবো, কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনে আপনাকেও উপরে পাঠিয়ে দেব, তাই বিন্দুমাত্র চালাকি করার চেষ্টা করবেন না, আপনাকে যেহেতু ভালো হিসেবেই চিনি অতএব ভালো হিসেবেই থাকুন, বাঁচতে চাইলে ওখান থেকে এক কদম নড়বেন না, যা যা বলবো মনোযোগ দিয়ে করে যান। আমি উপর-নিচ মাথা নাড়িয়ে বাধ্য শ্রোতা হয়ে খাটে উঠে বসে রইলাম।

(best romance novels)মেয়েটা পাশে থাকা চেয়ার টেনে গা এলিয়ে বসে পড়লো। ফোনে কোথায় যেন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছে, খুব শর্টকাট শব্দ ব্যবহার করছে। বাংলা হিন্দি নাকি চাইনিজ কিছুই বুঝতে পারলাম না। ধীরে ধীরে চাকুটাও নামিয়ে ফেললো। পুরো কক্ষ জুরে পিন পতন নীরবতা। কিছুক্ষণ পরপর সে বাঁকা চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে, কিছু একটা গভীর ভাবে ভাবছে। মেয়েটার কি মাথায় কোনো সমস্যা হয়েছে, নাকি সত্যিই ঠান্ডা মাথায় এমনটা করছে কিছুই বুঝতে পারছি না। মেয়েটা মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এই বাসায় কাজে যোগ দিয়েছিল। এই মেয়ে যে এমন ভয়ংকরী খুনি ভাবতেও অবাক লাগছে। মনে হচ্ছে প্ল্যান করেই এই বাসায় তার আগমন। কিন্তু কেন? আদও কী এই একলা মেয়ের পক্ষে খুন করা সম্ভব? বাড়ির বাকি মানুষেরা কই, তারা ঠিক আছে তো? মনে একেরপর এক প্রশ্নের ঝড় তুফান বয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ছুরির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করার সাহস পাচ্ছিলাম না। এই কয়দিনে দুইএকবার কথাও হয়েছিল মেয়েটার সাথে, মুখটা দেখে একবার মনে মনে বলেছিলাম, আহারে! অভাবে পরে সুন্দরী মেয়েদেরকেও এভাবে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করতে হয়, আজ বড়লোক ঘরে জন্মালে তার পিছেও দু চারজন কাজের লোক ঘুরে বেড়াতো। মেয়েটা কি আসলেই এত গরীব? নাকি বিপদে পড়ে কাজে নেমেছে? এরপর মুখের কথা শুনে সব সন্দেহ দূর হয়ে যায়, মুখে গ্রাম্য ভাষা, তোতলানো কথাবার্তা আর বোকার মতন ফ্যালফ্যালিয়ে হাসি এসব দেখে মনে আর দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন জাগেনি। এখন আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি, সে একজন নিখুঁত অভিনেত্রী! সন্দেহ করার মতন তেমন কিছুই আর খুজে পাইনি। এখন কথা শুনে বুঝা যাচ্ছে মেয়েটা যথেষ্ট শিক্ষিত একটি মেয়ে। তার খুনের উদ্দেশ্যটা আসলে কী? সাহস নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন করলাম। কে আপনি? কেন এসেছেন এখানে?

মেয়েটা নীরবতা ভেঙে উত্তর দিল..
– আমি শ্রেয়া, আমার একটাই পরিচয় আমি ভবঘুরে শ্রেয়া, বাকি সব পরিচয় মুছে ফেলেছি, এখানে সেখানে ঘুরে বেরিয়ে খাই, বাড়ি বাড়ি অমানুষ খুঁজে বেরাই। খুব সহজ হিসেব, এখানেও এসেছিলাম খুন করতে
– কেন খুন করেছেন?
– কারণ অমানুষদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই
– এই লোকটি আপনার কি ক্ষতি করেছে যে তাকে খুন করে ফেললেন?
– আমার আর কিসের ক্ষতি, আমার যা ক্ষতি হবার বহু আগেই হয়ে গিয়েছে, এখন মানুষের ক্ষতি রোধ করে বেড়াই, যাকে খুন করেছি তিনি একজন রেপিস্ট, এই বাসায় পূর্বে যেসব কাজের মেয়ে তার হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে তাদের অভিযোগ পেয়ে প্রতিশোধ নিতে এসেছিলাম
– তাই বলে মুখের কথায় সরাসরি খুন!
মেয়েটা মুচকি হেসে বলছে..
– শ্রেয়া প্রমাণ ছাড়া কারো কোনো ক্ষতি করে না, আমরা খবর পেয়ে সেই সব লম্পটদের বাসা বাড়িতে যাই, এরপর যতক্ষণ না নিজে তাদের লোভের শিকার হই ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে যাই, আজ যখন আমি নিজে শিকার হয়েছি, শোনা কথার প্রমান হয়ে গেছে, ব্যাস, সাথে সাথে আমাদের আদালতে তার মৃত্যুর রায় হয়ে গেল। সব তো প্রস্তুতি নেওয়াই থাকে, খুনটাও ঝটপট করে ফেললাম।
– আপনি পুলিশের কাছে যেতে পারতেন, আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন.. এভাবে কেউ নিজে নিজে..
এটুক বলতেই মেয়েটা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে ছুড়ি নিয়ে আমার উপরে ঝাপিয়ে পড়ে! গলায় ছুড়ি ঠেকিয়ে বলে..
– ও-ই সুশীল সমাজের বাচ্চা! আমাকে তুই আইন দেখাস? তোদের আইনরে আমি এইভাবে টুকরা টুকরা করে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো!
– দেখুন প্লিজ, প্লিজ শান্ত হোন, আমি আপনার ভালোর জন্যেই বলছিলাম, আপনার বিপক্ষের কেউ নই… মাথা ঠান্ডা করুন
মেয়েটা আস্তে আস্তে ছুরি সরিয়ে নেয়, নিজেকে শান্ত করে খোলা চুল মুড়িয়ে খোপা বেধে নেয়। মেয়েটার ভেতরে যে কী পরিমাণ ক্ষোভ জমে আছে একটু আগে তার চোখে মুখে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি। তার রক্তিম চোখের চাহনি.. নাকের ডগায় ভেসে উঠা লালচে রঙের আভা ক্ষনিকের জন্য আমার হার্টবিট বন্ধ করে দিয়েছিল।

মেয়ে শান্ত গলায় আমাকে বলছে..
দুঃখিত, আপনার সাথে আমার কোনো শত্রুতা নেই, যে কয়দিন থেকেছি জেনেছি.. আপনি মানুষটা অনেক সহজ সরল, আমার ব্যবহারে কিছু মনে করবেন না। বাসার নিচে গোলির মোরে আমাদের লোকেরা অপেক্ষা করছে আমাকে নিয়ে যেতে, কিন্তু ছোট্ট একটা বিপদে পড়ে বাধ্য হয়ে আপনার রুমে আসতে হলো। একটু আপনার সাহায্যের প্রয়োজন।
– কেমন বিপদ?
– আমাদের পালানোর পথ প্রতিবারের মতো প্রস্তুত করাই থাকে, কিন্তু সবসময় তো আর প্ল্যান মোতাবেক কাজ হয় না, ছাদে কে যেন আজ অন্য তালা লাগিয়ে রেখেছে। তালাটা আপনার ভেঙে দিতে হবে।
– না না আপনার কাজ আপনি করুন গিয়ে, আমাকে এসব ঝামেলায় ফেলতে আসবেন না
– এই যে মিস্টার এই যে.. আপনি কি জানেন এমুহূর্তে সবথেকে বিপদে এখন আপনিই রয়েছেন?
এখন যদি সবাই আমাকে ধরেও ফেলে একমাত্র আপনিই ফেঁসে যাবেন। আমি শুধু বসে বসে কাঁদবো, কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যাব। কোনো থানা পুলিশে আমাকে কিছুই করতে পারবে না। মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখবে আমি ধর্ষিত! আমি চাইলে ধর্ষিত হবার পূর্বেই লোকটিকে মেরে ফেলতে পারতাম,, অতটা কাঁচা প্লেয়ার যে আমি নই, প্রত্যেকের খায়েশ মেটানোর পরেই তাদের মেরে থাকি। যেন কখনো ধরা খেলে পুলিশ আদালত আমাকে ধর্ষিতা হিসেবেই দেখবে। এতে করে খুনটাকেও আত্মরক্ষা হিসেবে চালিয়ে বাঁচা যাবে। এখন আমার পালিয়ে যাওয়া মানে আপনার বেঁচে যাওয়া। আপনার ভালোর জন্যেই বলছি, বাকিটা আপনার ইচ্ছে।

– আমিতো এমনেতেও ফেসে যাবো, নিরপরাধ আমাকে যে ফাঁসিয়ে যাচ্ছেন, এদিকে একটিবার ভাবলেন না!
– কোথায় আপনি ফাঁসলেন?
– আপনি তো পালাচ্ছেন, কিন্তু ধরা তো খাব আমরা ভারাটিয়ারা, এরপর পুলিশ রিমান্ড পুরো লাইফটাই শেষ হয়ে যাবে আমার।
– দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এই পর্যন্ত আমরা সবাই মিলে চুয়ান্নটা কেস সলভ করেছি! আজ পর্যন্ত নিরপরাধ কাউকে বিপদে ফেলিনি।
– কী বললেন, চুয়ান্নটা খুন! এরমানে মাঝেমধ্যে ধর্ষকের মৃত্যু নামে যেসব সংবাদ ভাইরাল হতে দেখি সেগুলো আপনাদের কারো কাজ?

(best romance novels)মেয়েটা হ্যাঁ না কিছু না বলে মুচকি হেসে চাকুর দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোথায় যেন হারিয়ে যায় সে। অন্যমনস্ক হয়ে বলে.. “জানেন, এই পথটা আমি বেছে নিয়েছি কতটা কষ্ট পাবার পর তা একমাত্র আমিই জানি, সেই কবেই মরে যেতাম, হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে তার সৃষ্টিতে জন্মে যাওয়া কিছু আবর্জনা সাফাই করতে। এই ছোট্ট জীবনে বহুবার অপবিত্র হয়েছি পবিত্র লেবাসধারী কিছু অমানুষ দ্বারা” কাহিনী বলতে বলতে আপনা আপনি নিজ আত্মকাহিনীর গভীরে ঢুকে যায় সে। একটানে গড়গড়িয়ে সব বলে দেয়… “জানেন, তখন

(best romance novels) আমি এতটাই ছোট ছিলাম যে (কন্ঠ ভারী হয়ে আসে) ধর্ষণ শব্দটার মানে কি সেটাও বুঝতে শিখিনি। যাদের বুকে মাথা রেখে মেয়েরা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যায়, সেখানেও আমাকে জামা টেনে দৌড়ে পালাতে হয়েছে। কেউ আমাকে সাহায্য করেনি, কাউকে বুঝাতে পারিনি। আমার কষ্টগুলো ছিল তাদের আনন্দের একটি অংশ মাত্র।” মেয়েটার কন্ঠস্বর অনবরত কাঁপছে, ঠোঁট দুটো চাপিয়ে চোখের পানি ধরে রাখার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্ষনিক বাদে মেয়েটা জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শক্ত করে নেয়। দুবার কেশে নিয়ে গলা স্বাভাবিক বানিয়ে বলে.. “এভাবেই ধীরে ধীরে নিজেকে এই মানব সেবায় বিলিয়ে দিয়েছি, যদিও আমি তাদের নতুন সদস্য, আমার মত অনেকেই আছে এই দলে, সবাই একত্রে প্ল্যান করে কাজ করি, এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। আপনাদের কারো ভয় নেই, সবার রুম বাহির থেকে আটকে দিয়েছি, আপনার রুমটাও আটকে যাবো। পুলিশ এসে দেখবে সবার রুম বাহির থেকে তালা দেওয়া। কাউকে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হবে না, আপনিও বাকিদের মতো কিছুটা বিচলিত ভাব নিয়ে চলবেন, তাতেই হবে। এবার বলুন আমি কি সাহায্য পেতে পারি?

best romance novels
best romance novels



(best romance novels) আমি এতক্ষণ কথার ভেলায় ভেসে তার শৈশবে চলে গিয়েছিলাম। ক্ষনিকের জন্য তার জায়গাতে নিজেকে বসিয়ে ফেলেছিলাম। মেয়েটার জীবনের দিকে তাকিয়ে প্রচন্ড অস্বস্তি লাগছিল আমার। হাত দিয়ে নিজের মুখটা মুছে বললাম.. “বিল্ডিংয়ের ছাদ বেয়ে নামবেন কিভাবে?” উত্তরে বলল.. “সেই ব্যবস্থা আগেই করা আছে, যেদিন এসেছি সেদিনই পর্যাপ্ত দড়ি পানির ট্যাংকির পেছনে রেখে এসেছি, প্রতিদিন কাপড় শুকোতে গিয়ে দেখে আসতাম পালানোর রাস্তা সব ঠিকঠাক আছে কি না, ওসব নিয়ে চিন্তা নেই, শুধু তালাটা কে যেন আজ অন্যটা লাগিয়ে রেখেছে, এটার কিছু একটা ব্যবস্থা করলেই পালিয়ে যেতে পারব”
আমি ড্রয়ার থেকে ছাদের চাবি বের করে হাত এগিয়ে বললাম.. “জায়গা মতোই এসেছেন, ছাদের তালা কাল পরিবর্তন করেছে, চাবিটা দারোয়ান আমাকে দিয়েছিল স্যারকে দিতে, আর দিতে মনে নেই, মনে হচ্ছে আপনাকে দেয়ার জন্যেই আমার কাছে রয়ে ছিল”
মেয়েটি ছোট্ট হাসি দিয়ে চাবি দ্রুত হাতে নিয়ে নেয়।

এরপর সে বাকিদের মতো আমার রুমের দরজাটাও আটকে দিতে নিচ্ছে, আমি দরজাটা টেনে ধরে শেষ বারের মতো তাকে জিজ্ঞেস করি..
– আপনার সাথে যোগাযোগ করার কি কোনো মাধ্যম আছে? কোনো নাম্বার কিংবা ঠিকানা?
মেয়েটা অবাক সুরে বলছে..
– ওমা, একজন খুনির সাথে যোগাযোগ রেখে কি করবেন শুনি…?
– জানি না, তবে যদি কখনো কোনো সাহায্য করার সুযোগ হতো, এগিয়ে আসতাম
মেয়েটা হাসিমুখে না সূচক মাথা নেড়ে বলে..
– ধন্যবাদ, এতটুকু বলেছেন তাতেই অনেক খুশি হয়েছি, আপনি সত্যিই অনেক আলাভোলা একটা ছেলে, এসবের ভেজালে আর জড়ানোর প্রয়োজন নেই, এনজয় ইউর লাইফ।
আমি আর কিছু না বলে বিদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে রইলাম। মেয়েটা দরজা আটকানোর আগমুহূর্তে উঁকি দিয়ে আমার কানে ফিসফিসিয়ে বলছে.. “এর পরেও যদি আমার দেখা পেতে চান, তবে আপনিও এদের মতো দুই একটা রেপ করে ফেলুন! দেখবেন সময়মতো আমার দেখা পেয়ে যাবেন! হা হা হা” মেয়েটা নিচু স্বরে হাসতে হাসতে দরজাটা বাহির থেকে আটকে দেয়।

(best romance novels)কী অদ্ভুত ভয়ংকরী মেয়ে! সিরিয়াস মুহূর্তেও মজা নিতে নিতে যাচ্ছে। মাথা থেকে সব চিন্তা ঝেড়ে বেডে চিৎ হয়ে শুয়ে রইলাম। নিজেকে বুঝালাম, আমি কিছু জানি না, আমি কিছুই দেখিনি, বাকিদের মতো আমিও দরজা খুললে আকাশ থেকে পড়বো। জুড়ে চিৎকার দিয়ে পাশে যাকে পাবো তাকে জড়িয়ে ধরবো। কোনোমতে এই বিপদ থেকে বাঁচতে পারলেই হল, এরপর আমি আর এই এলাকার সীমানাতে নাই।
এভাবে ধীরে ধীরে ভোর হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ একজন উঠেছে। পাশের রুমে দরজা ধাক্কানোর শব্দ, সম্ভবত ম্যাডাম রুম থেকে আওয়াজ করছেন। এরপর দরজা ধাক্কাধাক্কির শব্দে আরেক রুমের ভারাটিয়া ছাত্র দুজন জেগে উঠেছে, তারাও দরজা ধাক্কাছে। সবার দরজা তালা দেওয়া। আমিও তাদের সাথে যোগ দিলাম। নিজেও জোরে জোরে দরজা ধাক্কাছি আর বলছি.. দরজা আটকালো কে!


(best romance novels) এভাবে শব্দ হতে হতে দারোয়ান উপরে উঠে এলো। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাড়ি হৈ চৈ বেধে গেল। আধাঘন্টার মধ্যে বাড়িতে পুলিশের গাড়ি এসে হাজির।
তারা একে একে রুমের তালা ভাঙছে। প্রত্যেকের রিয়াকশন ফলো করলাম, অন্য রুমের দরজা খুলতেই কে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করে নিলাম। সব শেষে আমার দরজায় হাত দিয়েছে তারা। আমার হাত পা বার বার ঘামছে। ঘাম মুছে নিতে গামছার দিকে তাকাতেই কলিজার পানি শুকিয়ে যায়! পুরো গামছা জুড়ে রক্ত লেগে আছে! মেয়েটা যে রক্তমাখা হাত মুখ মুছে দরজার পাশে ফেলে রেখেছিল আমার আর সেদিকে খেয়ালই নেই! সর্বনাশ হয়ে যাবে! দ্রুত লুকিয়ে ফেলার জন্য গামছাটা হাতে নিতে যাব ঠিক সেই মুহূর্তে দরজাটা খুলে যায়! দরজা খোলাতে গামছাটা দরজার আড়ালে পড়ে যায়। আমার আর নড়াচড়া করার কোনো উপায় নেই, সামনে পুলিশ, বাকিদের মতো রুম থেকে অবাক হয়ে বেরিয়ে এলাম, আমিও বাকিদের মতো বিচলিত হয়ে গেলাম। খুব বেশি অভিনয় করতে হয়নি, গামছাটা আমার রুমে রয়ে গেল সেই চিন্তায় আমার হাত পা এমনেতেই অনবরত কাঁপছে। পেছন ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই। পুলিশের নির্দেশে সোজা নিচে নেমে যেতে হয়েছে।

(best romance novels)বাড়ির গ্যারেজ ভর্তি পুলিশ। সবাই সেখানে জড়ো হয়ে আছে। ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গা নেই। বাড়ির মেইন গেইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাড়াটিয়ারা এক পাশে দাঁড়িয়ে আছি, অপরপাশে স্যারের স্ত্রী বাকশূন্য হয়ে বসে আছেন। কিছুক্ষণ বাদে ডেটবডি নামিয়ে এম্বুল্যান্সে তোলা হলো। উপরে থাকা পুলিশরাও ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো। তারা ম্যাডামের সাথে কি নিয়ে যেন কথা বলছেন। কথাবার্তায় মনে হচ্ছে তারা এখন চলে যাবেন। মনে মনে বলছি এই যাত্রায় তাহলে বেঁচে গেলাম, তারা বোধহয় আমার রুমের গামছাটা আর খেয়াল করেননি। এমন সময় পেছন থেকে কারো হাত আমার কাঁধে এসে পড়লো। মাথা ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম আমার থেকেও এক হাত লম্বা জলহস্তির ন্যায় একজন পুলিশ অফিসার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন! ইশারায় তিনি ম্যাডামকে কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেন, ম্যাডাম শুধু দূর থেকে মাথাটা নাড়লেন। এরপর অফিসার আমার শার্টের কলারটা মোচড়ে ধরে হেঁচকা টেনে বললেন.. “গাড়িতে উঠুন!”